০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহী মহানগরীর বেলপুকুর থানা এলাকায় সংঘটিত একটি চাঞ্চল্যকর ক্লু-লেস দস্যুতা মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন

স্টাফ রিপোর্টার
  • Update Time : ১২:০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • / ২৬ Time View

রাজশাহী মহানগরীর বেলপুকুর থানা এলাকায় সংঘটিত একটি চাঞ্চল্যকর ক্লু-লেস দস্যুতা মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মহানগর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ ঘটনায় জড়িত মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত একটি পিস্তলসদৃশ বস্তু, ছিনতাইকৃত নগদ ৩৩ হাজার টাকা এবং দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত ২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন- বোয়ালিয়া থানার সপুরা গ্রামের মৃত সালাউদ্দিনের ছেলে মো: আব্দুর রহমান ডাবলু (৩৬) এবং মতিহার থানার মির্জাপুর গ্রামের মৃত হাসানের ছেলে বর্তমানে বোয়ালিয়া থানার কাদিরগঞ্জ গ্রামের আবু সাদাত মো: সায়েম ওরফে মিলন (৪৮)। তারা উভয়েই রাজশাহী মহানগরীর বাসিন্দা।

মামলার তদন্তে জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে পাবনা ডেইরি ফার্মের কর্মচারী মো. মাসুদ রানা ২ হাজার লিটার শীতলকৃত তরল দুধ নিয়ে পাবনা থেকে রাজশাহীর সপুরা সেলস সেন্টারে আসেন। দুধ আনলোড করার পর রাজশাহী সেন্টার থেকে সেন্টার ম্যানেজার তাকে প্রধান কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০ টাকা প্রদান করেন। পরে তিনি ওই টাকা লরির চালকের আসনের পেছনে রেখে পাবনার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে বেলপুকুর থানার উত্তর কাজীরপাড়া এলাকায় পৌঁছালে পিছন থেকে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারীরা রেজিস্ট্রেশনবিহীন নীল রঙের একটি মোটরসাইকেলে এসে লরির সামনে ব্যারিকেড দিয়ে গতিরোধ করে। একপর্যায়ে তারা লরির জানালার কাঁচ ভেঙে চালকের গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং লরির ভেতরে রাখা ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

ঘটনার পর বেলপুকুর থানায় মামলা রুজু হলে পুলিশ কমিশনার, আরএমপি মহোদয়ের নির্দেশনায় উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি)-এর তত্ত্বাবধানে ডিবির একটি চৌকস দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন করে জড়িতদের শনাক্ত করতে সক্ষম হন।

পরবর্তীতে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হলে ডিবির একটি বিশেষ টিম অভিযান পরিচালনা করে দস্যুতার মূল পরিকল্পনাকারী মো. আব্দুর রহমান ডাবলু এবং ঘটনায় সরাসরি অংশগ্রহণকারী আবু সাদাত মো: সায়েম ওরফে মিলনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃত মূল পরিকল্পনাকারী আব্দুর রহমান ডাবলুর কাছ থেকে ছিনতাইকৃত নগদ ২৬ হাজার টাকা এবং আবু সাদাত মো: সায়েম ওরফে মিলনের কাছ থেকে দস্যুতার সময় ব্যবহৃত একটি পিস্তলসদৃশ বস্তু ও নগদ ৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অর্থের মোট পরিমাণ ৩৩ হাজার টাকা। এছাড়া তাদের নিকট থেকে ২ টি ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা বর্তমানে ডিবি হেফাজতে রয়েছে। অবশিষ্ট ছিনতাইকৃত অর্থ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ মহানগরীতে অপরাধ দমন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সর্বদা তৎপর ও বদ্ধপরিকর।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

রাজশাহী মহানগরীর বেলপুকুর থানা এলাকায় সংঘটিত একটি চাঞ্চল্যকর ক্লু-লেস দস্যুতা মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন

Update Time : ১২:০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

রাজশাহী মহানগরীর বেলপুকুর থানা এলাকায় সংঘটিত একটি চাঞ্চল্যকর ক্লু-লেস দস্যুতা মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মহানগর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ ঘটনায় জড়িত মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত একটি পিস্তলসদৃশ বস্তু, ছিনতাইকৃত নগদ ৩৩ হাজার টাকা এবং দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত ২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন- বোয়ালিয়া থানার সপুরা গ্রামের মৃত সালাউদ্দিনের ছেলে মো: আব্দুর রহমান ডাবলু (৩৬) এবং মতিহার থানার মির্জাপুর গ্রামের মৃত হাসানের ছেলে বর্তমানে বোয়ালিয়া থানার কাদিরগঞ্জ গ্রামের আবু সাদাত মো: সায়েম ওরফে মিলন (৪৮)। তারা উভয়েই রাজশাহী মহানগরীর বাসিন্দা।

মামলার তদন্তে জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে পাবনা ডেইরি ফার্মের কর্মচারী মো. মাসুদ রানা ২ হাজার লিটার শীতলকৃত তরল দুধ নিয়ে পাবনা থেকে রাজশাহীর সপুরা সেলস সেন্টারে আসেন। দুধ আনলোড করার পর রাজশাহী সেন্টার থেকে সেন্টার ম্যানেজার তাকে প্রধান কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০ টাকা প্রদান করেন। পরে তিনি ওই টাকা লরির চালকের আসনের পেছনে রেখে পাবনার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে বেলপুকুর থানার উত্তর কাজীরপাড়া এলাকায় পৌঁছালে পিছন থেকে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারীরা রেজিস্ট্রেশনবিহীন নীল রঙের একটি মোটরসাইকেলে এসে লরির সামনে ব্যারিকেড দিয়ে গতিরোধ করে। একপর্যায়ে তারা লরির জানালার কাঁচ ভেঙে চালকের গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং লরির ভেতরে রাখা ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

ঘটনার পর বেলপুকুর থানায় মামলা রুজু হলে পুলিশ কমিশনার, আরএমপি মহোদয়ের নির্দেশনায় উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি)-এর তত্ত্বাবধানে ডিবির একটি চৌকস দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন করে জড়িতদের শনাক্ত করতে সক্ষম হন।

পরবর্তীতে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হলে ডিবির একটি বিশেষ টিম অভিযান পরিচালনা করে দস্যুতার মূল পরিকল্পনাকারী মো. আব্দুর রহমান ডাবলু এবং ঘটনায় সরাসরি অংশগ্রহণকারী আবু সাদাত মো: সায়েম ওরফে মিলনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃত মূল পরিকল্পনাকারী আব্দুর রহমান ডাবলুর কাছ থেকে ছিনতাইকৃত নগদ ২৬ হাজার টাকা এবং আবু সাদাত মো: সায়েম ওরফে মিলনের কাছ থেকে দস্যুতার সময় ব্যবহৃত একটি পিস্তলসদৃশ বস্তু ও নগদ ৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অর্থের মোট পরিমাণ ৩৩ হাজার টাকা। এছাড়া তাদের নিকট থেকে ২ টি ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা বর্তমানে ডিবি হেফাজতে রয়েছে। অবশিষ্ট ছিনতাইকৃত অর্থ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ মহানগরীতে অপরাধ দমন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সর্বদা তৎপর ও বদ্ধপরিকর।