০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিবচরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার ও বিক্রির মহোৎসব

Reporter Name
  • Update Time : ১২:০৩:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫
  • / ৭৬৫ Time View

মাদারীপুরের শিবচরে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে ইলিশ শিকার ও বিক্রি। নদীর পাড়ে বসেছে অস্থায়ী হাট, সেখানে চলছে ইলিশ বেচাকেনার ধুম।

শিবচরের বিভিন্ন স্থানে— উপজেলার বন্দরখোলা ইউনিয়নের কাজীরসূরা, চরজানাজাতের হীরা খার বাজার, সামাদ খার চর, বেপারীর হাট, বাগড়ার চর, কাঠালবাড়ীর মিনাকান্দি নদীর পাড় এবং চরজানাজাতের শেষ প্রান্তের চৌদ্দ নম্বর চরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় দেখা গেছে ইলিশ বিক্রির জমজমাট বাজার। নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও যেন ইলিশ ধরা ও বিক্রির উৎসব— বলা চলে ‘ইলিশের মহোৎসব’।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ শিকার, আহরণ, মজুত, পরিবহন ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু নির্দেশনা অমান্য করে কিছু অসাধু ও মৌসুমি জেলে প্রকাশ্যে মা ইলিশ শিকার করছে এবং নদীর পাড়ে বসা অস্থায়ী হাটে বিক্রি করছে। প্রতিদিন এসব হাটে লাখ লাখ টাকার ইলিশ বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সরজমিনে বন্দরখোলা ইউনিয়নের কাজীরসূরা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রাতভর চলছে মাছ ধরা ও বিক্রির ধুম। প্রকৃত জেলেদের চেয়ে মৌসুমি জেলের সংখ্যা সেখানে বহুগুণ বেশি। একে বলা যায় রাত্রিকালীন মাছের বাজার।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, প্রশাসনের নজরদারি কম থাকায় জেলেরা সুযোগ নিচ্ছে। ফলে নিষেধাজ্ঞার সময়েও মা ইলিশ নির্বিচারে শিকার হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে ইলিশের প্রজনন ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলবে।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ. এম. ইবনে মিজান বলেন,

“আমরা প্রতিদিনই গভীর রাত থেকে অভিযান পরিচালনা করছি। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে মাঠে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। অপরাধীদের ধরতে নিয়মিত অভিযান চলছে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।”

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

শিবচরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার ও বিক্রির মহোৎসব

Update Time : ১২:০৩:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫

মাদারীপুরের শিবচরে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে ইলিশ শিকার ও বিক্রি। নদীর পাড়ে বসেছে অস্থায়ী হাট, সেখানে চলছে ইলিশ বেচাকেনার ধুম।

শিবচরের বিভিন্ন স্থানে— উপজেলার বন্দরখোলা ইউনিয়নের কাজীরসূরা, চরজানাজাতের হীরা খার বাজার, সামাদ খার চর, বেপারীর হাট, বাগড়ার চর, কাঠালবাড়ীর মিনাকান্দি নদীর পাড় এবং চরজানাজাতের শেষ প্রান্তের চৌদ্দ নম্বর চরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় দেখা গেছে ইলিশ বিক্রির জমজমাট বাজার। নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও যেন ইলিশ ধরা ও বিক্রির উৎসব— বলা চলে ‘ইলিশের মহোৎসব’।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ শিকার, আহরণ, মজুত, পরিবহন ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু নির্দেশনা অমান্য করে কিছু অসাধু ও মৌসুমি জেলে প্রকাশ্যে মা ইলিশ শিকার করছে এবং নদীর পাড়ে বসা অস্থায়ী হাটে বিক্রি করছে। প্রতিদিন এসব হাটে লাখ লাখ টাকার ইলিশ বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সরজমিনে বন্দরখোলা ইউনিয়নের কাজীরসূরা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রাতভর চলছে মাছ ধরা ও বিক্রির ধুম। প্রকৃত জেলেদের চেয়ে মৌসুমি জেলের সংখ্যা সেখানে বহুগুণ বেশি। একে বলা যায় রাত্রিকালীন মাছের বাজার।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, প্রশাসনের নজরদারি কম থাকায় জেলেরা সুযোগ নিচ্ছে। ফলে নিষেধাজ্ঞার সময়েও মা ইলিশ নির্বিচারে শিকার হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে ইলিশের প্রজনন ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলবে।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ. এম. ইবনে মিজান বলেন,

“আমরা প্রতিদিনই গভীর রাত থেকে অভিযান পরিচালনা করছি। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে মাঠে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। অপরাধীদের ধরতে নিয়মিত অভিযান চলছে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।”