০১:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সহপাঠী থেকে সংসদ সদস্য, নতুন দায়িত্বে এমপি মিলনকে সংবর্ধনা দিলেন ৮৫ ব্যাচের বন্ধুরা

স্টাফ রিপোর্টার
  • Update Time : ০৬:১৮:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • / ১৩০ Time View

সহপাঠী থেকে সংসদ সদস্য, নতুন দায়িত্বে এমপি মিলনকে সংবর্ধনা দিলেন ৮৫ ব্যাচের বন্ধুরা
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:
একসঙ্গে কলেজে পড়াশোনা, আড্ডা আর বন্ধুত্বের সেই দিনগুলো পেরিয়ে গেছে প্রায় চার দশক। সময়ের সঙ্গে সবাই ছড়িয়ে পড়েছেন নিজ নিজ কর্মজীবনে। তবে পুরোনো বন্ধুত্বের টান যে এত বছর পরও অটুট, তারই প্রমাণ মিলল রাজশাহীতে। রাজশাহী নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজের ১৯৮৫ ব্যাচের সেই সহপাঠীদের একজন এখন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড শফিকুল হক মিলন। বাংলাদেশ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় সেই পুরোনো সহপাঠীকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা দিয়েছেন ৮৫ ব্যাচের বন্ধুরা। শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে রাজশাহী নগরের একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বন্ধুরা এমপি মিলনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। একই সঙ্গে তাঁরা তাঁর নতুন দায়িত্বে সাফল্য কামনা করেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ ও বন্ধুত্বের এক মিলনমেলা। দীর্ঘ সময় পর সহপাঠীদের একসঙ্গে পেয়ে ফিরে আসে কলেজ জীবনের নানা স্মৃতি। একসঙ্গে পড়াশোনা, আড্ডা, হাসি-আনন্দসহ সেই সময়ের নানা ঘটনা নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন বন্ধুরা। এতে অনুষ্ঠানে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সহপাঠী মিলনের নতুন দায়িত্বকে নিজেদের জন্যও গর্বের বিষয় বলে উল্লেখ করেন তাঁরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এমপি মিলনের সহধর্মিণী সুলতানা সুমাইয়া হক সুমি এবং রাজশাহী নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজের ১৯৮৫ ব্যাচের বন্ধুরা।
এ সময় স্মৃতিচারণ করে সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন বলেন, ‘নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজের ১৯৮৫ ব্যাচের বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো সময়গুলো আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ও স্মরণীয় সময়ের একটি অংশ। কলেজজীবনে আমরা একসঙ্গে পড়াশোনা করেছি, আড্ডা দিয়েছি এবং নানা আনন্দ-বেদনা ভাগাভাগি করেছি। জীবনের নানা ব্যস্ততায় সময়ের সঙ্গে আমাদের অনেকের দূরত্ব তৈরি হয়েছে, কিন্তু হৃদয়ের বন্ধন কখনো দূরে সরে যায়নি। আজকের এই আয়োজন আমাকে সেই পুরোনো দিনের স্মৃতিতে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। মনে হচ্ছে, আমরা যেন আবারও সেই কলেজজীবনে ফিরে গেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘জীবনে অনেক পরিচয় ও অর্জন আসে, কিন্তু ছাত্রজীবনের বন্ধুত্বের স্মৃতি সব সময়ই আলাদা। সহপাঠীরা আজ আমাকে যে ভালোবাসা ও সম্মান দিয়েছেন, তা আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও আবেগের বিষয়। তাঁদের আন্তরিকতা ও শুভকামনা আমাকে নতুন করে অনুপ্রাণিত করেছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে যে দায়িত্ব পেয়েছি, সেটি আমার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানের। এই দায়িত্ব পালনে আমার অভিজ্ঞতা ও মেধা কাজে লাগাতে চাই। দেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, নদী রক্ষা এবং মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করব।’
রাজশাহী নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শিখা সরকার বলেন, ‘সংসদ সদস্য অ্যাড শফিকুল হক মিলনের এই অর্জনে আমরা গর্বিত। তিনি শুধু একজন সংসদ সদস্য নন, তিনি এই কলেজের একজন সাবেক শিক্ষার্থী। এই প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থী জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন- এটি আমাদের জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। শিক্ষা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের প্রতিও তাঁর আন্তরিকতা প্রশংসনীয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা ও অর্জন বর্তমান শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবে। একই সঙ্গে নতুন দায়িত্বে তিনি তাঁর অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণ কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি।’

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সহপাঠী থেকে সংসদ সদস্য, নতুন দায়িত্বে এমপি মিলনকে সংবর্ধনা দিলেন ৮৫ ব্যাচের বন্ধুরা

Update Time : ০৬:১৮:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

সহপাঠী থেকে সংসদ সদস্য, নতুন দায়িত্বে এমপি মিলনকে সংবর্ধনা দিলেন ৮৫ ব্যাচের বন্ধুরা
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:
একসঙ্গে কলেজে পড়াশোনা, আড্ডা আর বন্ধুত্বের সেই দিনগুলো পেরিয়ে গেছে প্রায় চার দশক। সময়ের সঙ্গে সবাই ছড়িয়ে পড়েছেন নিজ নিজ কর্মজীবনে। তবে পুরোনো বন্ধুত্বের টান যে এত বছর পরও অটুট, তারই প্রমাণ মিলল রাজশাহীতে। রাজশাহী নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজের ১৯৮৫ ব্যাচের সেই সহপাঠীদের একজন এখন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড শফিকুল হক মিলন। বাংলাদেশ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় সেই পুরোনো সহপাঠীকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা দিয়েছেন ৮৫ ব্যাচের বন্ধুরা। শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে রাজশাহী নগরের একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বন্ধুরা এমপি মিলনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। একই সঙ্গে তাঁরা তাঁর নতুন দায়িত্বে সাফল্য কামনা করেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ ও বন্ধুত্বের এক মিলনমেলা। দীর্ঘ সময় পর সহপাঠীদের একসঙ্গে পেয়ে ফিরে আসে কলেজ জীবনের নানা স্মৃতি। একসঙ্গে পড়াশোনা, আড্ডা, হাসি-আনন্দসহ সেই সময়ের নানা ঘটনা নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন বন্ধুরা। এতে অনুষ্ঠানে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সহপাঠী মিলনের নতুন দায়িত্বকে নিজেদের জন্যও গর্বের বিষয় বলে উল্লেখ করেন তাঁরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এমপি মিলনের সহধর্মিণী সুলতানা সুমাইয়া হক সুমি এবং রাজশাহী নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজের ১৯৮৫ ব্যাচের বন্ধুরা।
এ সময় স্মৃতিচারণ করে সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন বলেন, ‘নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজের ১৯৮৫ ব্যাচের বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো সময়গুলো আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ও স্মরণীয় সময়ের একটি অংশ। কলেজজীবনে আমরা একসঙ্গে পড়াশোনা করেছি, আড্ডা দিয়েছি এবং নানা আনন্দ-বেদনা ভাগাভাগি করেছি। জীবনের নানা ব্যস্ততায় সময়ের সঙ্গে আমাদের অনেকের দূরত্ব তৈরি হয়েছে, কিন্তু হৃদয়ের বন্ধন কখনো দূরে সরে যায়নি। আজকের এই আয়োজন আমাকে সেই পুরোনো দিনের স্মৃতিতে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। মনে হচ্ছে, আমরা যেন আবারও সেই কলেজজীবনে ফিরে গেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘জীবনে অনেক পরিচয় ও অর্জন আসে, কিন্তু ছাত্রজীবনের বন্ধুত্বের স্মৃতি সব সময়ই আলাদা। সহপাঠীরা আজ আমাকে যে ভালোবাসা ও সম্মান দিয়েছেন, তা আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও আবেগের বিষয়। তাঁদের আন্তরিকতা ও শুভকামনা আমাকে নতুন করে অনুপ্রাণিত করেছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে যে দায়িত্ব পেয়েছি, সেটি আমার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানের। এই দায়িত্ব পালনে আমার অভিজ্ঞতা ও মেধা কাজে লাগাতে চাই। দেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, নদী রক্ষা এবং মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করব।’
রাজশাহী নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শিখা সরকার বলেন, ‘সংসদ সদস্য অ্যাড শফিকুল হক মিলনের এই অর্জনে আমরা গর্বিত। তিনি শুধু একজন সংসদ সদস্য নন, তিনি এই কলেজের একজন সাবেক শিক্ষার্থী। এই প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থী জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন- এটি আমাদের জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। শিক্ষা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের প্রতিও তাঁর আন্তরিকতা প্রশংসনীয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা ও অর্জন বর্তমান শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবে। একই সঙ্গে নতুন দায়িত্বে তিনি তাঁর অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণ কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি।’