ধনবাড়ীতে NID ব্যবহার করে বয়স্ক ভাতা কার্ডের অনিয়মের অভিযোগ, টাকা যাচ্ছে অন্যের মোবাইলে!
- Update Time : ১০:৩১:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৩ Time View

ধনবাড়ীতে NID ব্যবহার করে বয়স্ক ভাতা কার্ডের অনিয়মের অভিযোগ, টাকা যাচ্ছে অন্যের মোবাইলে!
নিজস্ব প্রতিবেদক
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে এক বয়স্ক নারীর অজান্তে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ব্যবহার করে বয়স্ক ভাতার নিবন্ধন এবং ভাতার টাকা অন্য একটি মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে জমা করে উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সরকারি ভাতা ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্টদের তদন্তের আওতায় এনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী মোছা. আনোয়ারা বেগম (বয়স্ক), স্বামী—মৃত আব্দুর রশীদ। তিনি উপজেলার বলিভদ্র ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কেরামজানী গ্রামের বাসিন্দা।
ভুক্তভোগীর করা অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত আনোয়ারা বেগমকে বয়স্ক ভাতাসহ সরকারি সেবা ও ভাতা কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে কিছুদিন আগে তার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নেন একই ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম ভুট্ট। পরে নতুন করে বয়স্ক ভাতার জন্য আবেদন করতে গেলে তিনি জানতে পারেন, তার NID ব্যবহার করে এরই মধ্যে বয়স্ক ভাতা নিবন্ধন করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরে ইউনিয়ন পরিষদে খোঁজ নিয়ে আনোয়ারা বেগম জানতে পারেন, তার অজান্তে বয়স্ক ভাতার টাকা ‘নগদ’ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের একটি হিসাবে জমা হয়ে আসছে। ওই হিসাব থেকে নিয়মিত টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
অভিযোগপত্রে এ সংক্রান্ত একটি মোবাইল নম্বর হিসেবে ০১৮৭৮৬২২৮৮৩ উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, তিনি নিজে কোনো ভাতা হিসাব খোলেননি এবং এ পর্যন্ত বয়স্ক ভাতার কোনো টাকাও হাতে পাননি। তার অজ্ঞাতে কীভাবে NID ব্যবহার করে ভাতা নিবন্ধন করা হলো এবং কার মোবাইল হিসাবে সরকারি ভাতার টাকা যাচ্ছে—এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, যদি তদন্তে ভাতার টাকা আত্মসাতের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে বকেয়া ভাতার টাকা উদ্ধার করে আনোয়ারা বেগমকে প্রকৃত ভাতাভোগী হিসেবে সরকারি সুবিধার আওতায় আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
স্থানীয়দেরও নানা অভিযোগ, এদিকে, একই গ্রামের বাসিন্দা মিন্টু অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ভুট্টো বিভিন্ন মানুষের কার্ড নিয়ে বিধবা ও বয়স্ক ভাতার কার্ডে তার স্ত্রীর মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন করেন—এমন কথা আমরা অনেকের কাছ থেকেই শুনেছি।”
তবে স্থানীয় বাসিন্দার এ বক্তব্যের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও ভাতার লেনদেনের তথ্য যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
অভিযুক্তের দাবি, ‘পারিবারিক শত্রুতার কারণে অপপ্রচার’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম ভুট্ট অভিযোগগুলোকে “ভিত্তিহীন ও বানোয়াট” দাবি করে বলেন, “আমার সঙ্গে পারিবারিক শত্রুতা থাকার কারণে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”
তবে ভুক্তভোগীর NID কীভাবে বয়স্ক ভাতা নিবন্ধনে ব্যবহৃত হয়েছে এবং অভিযোগে উল্লেখ করা মোবাইল নম্বরের সঙ্গে ভাতা হিসাবের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।
তদন্তের দায়িত্ব সমাজসেবা কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে ধনবাড়ী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি ফোনে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “ফোনে এ সমস্ত কথা বলা সম্ভব না, সামনাসামনি কথা বলতে হবে।”
ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুরজাহান আক্তার সাথী বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি জেনেছি। সমাজসেবা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”
এখন তদন্তে বেরিয়ে আসবে—ভুক্তভোগীর NID ব্যবহার করে কারা ভাতা নিবন্ধন করেছে, ভাতার অর্থ কোন হিসাবে গেছে এবং নিয়মিত টাকা উত্তোলনের অভিযোগের সত্যতা কতটুকু। একই সঙ্গে সরকারি ভাতা বিতরণ ব্যবস্থায় কোনো অনিয়ম বা জালিয়াতি হয়ে থাকলে তার সঙ্গে কারা জড়িত, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে আশা করছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।
















